মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৯ মার্চ ২০১৭

বেগম শামছুন নাহার

বেগম শামছুন নাহার

সচিব

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের

 

বেগম শামছুন নাহার, বর্তমানে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন সদস্য হিসেবে ১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারি সহকারী কমিশনার ও নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন। অত:পর তিনি উপজেলা নিবার্হী অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

 

তাঁর কর্মময় জীবনে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ও উপসচিব হিসেবে ৯ (নয়) বছর কার্যকাল অতিবাহিত করেন। এ দীর্ঘ কর্মকালীন সময়ে তিনি প্রাথমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতকরণার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিশু মৃত্যু হার রোধ ও গড় আয়ূ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে “মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (MDG)” অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর কর্মকালীন সময়ে উক্ত মন্ত্রণালয়ের উল্লেখযোগ্য কর্মের স্বীকৃতি স্বরুপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী UN সনদ লাভ করেন।

 

পরবর্তীতে তিনি অর্থনেতিক সম্পর্ক বিভাগে (ERD) উপসচিব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ অনুবিভাগের দায়িত্ব পালন করেন। কর্মকালীন সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত সক্ষমতা ও কূটনৈতিক দক্ষতার জোরে তিনি উন্নয়ন সহযোগীদের (Development Partner) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সর্ম্পক গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম-সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

 

২০০৯ সালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম-সচিব হিসেবে তার পদায়ন হয়। এ মন্ত্রণালয়ে ২ (দুই) বছর দায়িত্ব পালনের পর পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ বুরো (বিএমইটি) এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ পদে তিনি ৪ (চার) বছর দায়িত্ব পালনের পর ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এর মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য। “বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩”, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিধি-২০১৬ ইত্যাদি প্রণয়নেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁর অক্লান্ত শ্রম, নিষ্ঠা, ঐকান্তিকতা, একাগ্রতা ও নেতৃত্বদানের ক্ষমতাবলে এনজিও, সুশীল সমাজ ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত গ্রহনের ভিত্তিতে এ সকল আইন ও বিধি প্রণয়নের মতো জনকল্যাণমূলক ও শ্রম নিষ্ঠ কাজ সম্ভব হয়েছে।

 

অভিবাসীদের  কল্যাণ ও উন্নয়নে অসংখ্য জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নতুন শ্রম বাজার অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশেষত: সৌদি আরব, জর্ডান ও কাতারের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অভিবাসী কর্মীদের স্বার্থ ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে তিনি তাঁর জোরালো অভিমত ব্যক্ত করেন। ২০১১ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক ফোরাম “কলম্বো প্রসেস” এর সফল আয়োজনে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য। এই ফোরামে মানব সম্পদ রপ্তানিকারক দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১ (এগার) জন শ্রম মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলনটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক শুভ উদ্বোধন করা হয়। এই সম্মেলনেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক “প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক” এর ঘোষণা করা হয়।

 

বেগম শামছুন নাহার তাঁর কর্মজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্যয় করেছেন অভিবাসী কর্মীদের মানবাধিকার রক্ষা ও সুরক্ষা, বিদেশে তাদের মানসম্মত কাজের সন্ধান এবং কল্যাণ কর্মে। এ উপলক্ষে অসংখ্য “জয়েন্ট কমিটি” গঠিত হয়েছে। স্বাক্ষরিত MOU কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়াও অসংখ্য দ্বি-পাক্ষিক, বহুপাক্ষিক এবং আন্তর্জাতিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। তাঁর পেশাধারী সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার কারণে ইতোমধ্যে তিনি আইন ও বিধি প্রণয়ন, অভিবাসীদের ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষায় নিজেকে দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। অভিবাসী কর্মীদের মানবিক ও নৈতিক অভিবাসনকে লক্ষ্য করেই তাঁর সকল কর্ম ও উদ্দীপনা। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নবম Global Forum of Migration and Development (GFMD) এর বর্তমান সহ-সভাপতির পদে সমাসীন রয়েছেন।  

 

তিনি বহু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজেকে নিযুক্ত রেখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছেন। বর্তমানে তিনি “এশিয়া প্যাসিফিক” এর সাব-কমিটি’র সদস্য এবং বাংলাদেশ স্কাউটের আন্তর্জাতিক মুখপাত্র।

 

বেগম শামছুন নাহার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাংলা সাহিত্যে (সম্মান) ও মার্স্টাস ডিগ্রী অর্জন করেন। তাছাড়াও তিনি প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মহিদুল বিশ্ববিদ্যালয়, থাইল্যান্ড হতে মার্স্টাস ডিগ্রী অর্জন করেছেন। ইতালী’র ILO ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিং সেন্টার হতে “Procurement Management” উপর ডিপ্লোমা করেছেন। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল হতে ICT এর উপর পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং একটি কণ্যা সন্তানের জননী।

 

 

 

 

 

 

 

 


Share with :
Facebook Facebook